Frozen সিনেমাটা নিশ্চয়ই
সবারই দেখা। আর যদি কেউ না দেখে থাকেন তাহলে আজই দেখে নিন। কারণ আজকে আমরা যেখানে
যাবো, সেখানে এই রুপকথার গল্পের বাস্তব রুপ দেখতে পাব। গল্পে প্রিন্সেস এলসা নিজের
একটি প্রাসাদ বানান। পুরোটাই বরফের তৈরি। প্রাসাদের সিঁড়ি, দেয়াল, ঝাড়বাতি সব
কিছুই বরফের তৈরি। মনে হতেই পারে, বাস্তবে এরকম অট্টালিকা তৈরি সম্ভব নাকি!? উত্তর
হল, সম্ভব। আজকে আমরা সেরকমই একটা জায়গায় যাবো। আইস হোটেল(Ice Hotel), দ্যা আইস হোটেল, ইয়াকাসিয়ারভি
(Jukkasjärvi) গ্রাম, উত্তর সুইডেন।
![]() |
| Photo: Icehotel Main Hall (2014) by Alessandro Falca & AnnaSofia Mååg Picture courtesy: wikipedia.org |
পৃথিবীর সর্ব প্রথম আইস
হোটেল এটি। এই হোটেলকে সুইডেনের সপ্তম আশ্চর্য বলা হয়। ১৯৯০ সালে প্রথম আবিষ্কার
হয় এই হোটেলের।আবিষ্কার বলার পিছনে কারণ আছে। প্রথমে ১৯৮৯ সালে জাপানের একজন
আর্টিস্ট বেড়াতে আসেন এবং আইস আর্টের প্রদর্শনী করেন এই জায়গায় মানে ইয়াকাসিয়ারভি (Jukkasjärvi) গ্রামে। এরপর ১৯৯০
সালে বসন্তের সময় একজন ফ্রেঞ্চ আর্টিস্ট নাম জান্নত দেরিদ (Jannot Derid) আইস আর্টের প্রদর্শনী করেন একটা সিলিনডার আকৃতির ইগলুর
মধ্যে এই জায়গাতেই। একদিন কিছু পরিদর্শক রাতে থাকার মত কোন ঘর পেল না ওই শহরে। তাই
তারা ওই ইগলুতে থাকার জন্য অনুরোধ জানালেন। আর তারপর থেকেই এই হোটেলের যাত্রা শুর
এবং সেই রাতের পরিদর্শকরাই হল আইস হোটেলের প্রথম অতিথি।
![]() |
| Photo: Jukkasjärvi Icehotel interior. Sculptures by Jörgen Westin Picture courtesy: wikipedia.org |
বছরের মধ্যে পাঁচ মাস এই
হোটেলের অস্তিত্ব জীবিত থাকে, যদি আবহাওয়ার বিশেষ কোন পরিবর্তন না হয়।ডিসেম্বর মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। নভেম্বর মাসে তরনে
নদী( Torne Rive)বরফে পরিণত হয়। ওই নদী থেকে বরফের ব্লক কেটে এনে এই হোটেল
তৈরি হয়। এপ্রিল মাসের পর গ্রীষ্মে এই বরফ গলে আবার তরনে নদী( Torne Rive)তে মিশে যায়। তাই প্রতি বছর এটি নতুন ভাবে নতুন ডিজাইনের
তৈরি হয়।পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্থ থেকে বেশ কিছু দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা আসেন এই হোটেল
তৈরি করার জন্য।
![]() |
| Photo: Torne River Picture courtesy: icehotel.com |
হোটেলের সমস্ত আসবাব যেমন
চেয়ার, বিছানা, জল খাবার পাত্র মানে গ্লাস সবই বরফের তৈরি।এছাড়াও রয়েছে থিয়েটার
হল, বার, চ্যাপেল (chapel) যা সবই বরফের তৈরি। এই চ্যাপেলে অনেকে আবার বিবাহ বন্ধনে
আবদ্ধ হন।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৪ হাজারের মত অতিথিরা আসেন এই
স্বর্গীয় অনুভুতি উপলব্ধি করতে। হোটেলের বাইরের তাপমাত্রা -৪৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট হলেও ভিতরের তাপমাত্রা -৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট এ কাছে থাকে।
![]() |
| Photo: Rock Ice Room Picture courtesy: wikipedia.org |
![]() |
| Photo: A long sofa Picture courtesy: wikipedia.org |
একটা প্রশ্ন সবার মনে নিশ্চয়ই উঁকি দিচ্ছে? বাথরুম ও কি বরফের তৈরি? তাদের জন্য বলি,না।কোন
বাথরুম নেই এই হোটেলে। হোটেলের পাশেই একটা বিল্ডিং আছে যেখানে বাথরুমের বাবস্থা
আছে এবং থাকবার ব্যবস্থাও আছে। আর ওখানকার তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত গরম। এটা জানার পর
নিশ্চয়ই আপনাদের আইস হোটেলে বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করছে?
কি ভাবে যাবেন?
প্রথমে সুইডেন
পৌঁছাতে হবে। তারপর স্টকহোম অরলান্ডা এয়ারপোর্ট(Stockholm Arlanda Airport) থেকে কিরুনা
এয়ারপোর্ট (Kiruna Airport), ৯০ মিনিটের পথ।
এরপর আপনার জন্য অপেক্ষা করবে কুকুরে টানা স্লেজ।স্লেজে করে পৌঁছে যাবেন আইস হোটেল।
![]() |
| Photo:Dog sleigh Picture courtesy: icehotel.com |






0 মন্তব্যসমূহ
আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করে !